পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ৫ মে, ২০১২

                         ♥♥♥ যেখানে থেকো সুখে থেকো . ♥♥♥.....


রাতুল এলাকায় নতুন, তেমন কিছু একটা চেনে না । রাতুল এর আব্বু ইচ্ছা করে ঢাকা ছেড়ে খুলনা এসেছে । কেন এসেছে তা এখন বুঝে ওঠা হইনি তার । ক্লাস ১০ এ পড়ে সে, এমন সময় এ জায়গা বদল টা আসলেই সমস্যা এর সৃষ্টি করে । কিন্তু কিছু করার নেই, পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে তাই বাসার সামনের আলফা কোচিং এ ভর্তি হল । ভাল ই যাচ্ছিল সময় টা যতক্ষণ না সেখানের স্যাররা ছেলেদের আর মেয়েদের ব্যাচ এক করে দিলেন । প্রথম প্রথম রাতুল এর অনেক লজ্জা লাগত মেয়েদের সামনে কথা বলতে, স্যার এর প্রশ্নের জবাব দিতে, কোন কিছু মুক্ত ভাবে করতে ।


কিছুদিন পর হটাত একদিন সে লক্ষ্য করল ক্লাস এ নতুন একটা মেয়ে এসেছে, আরে মেয়েটাত তারা যে বাসায় থাকেসেই বাসার মালিক এরই মেয়ে । রাতুল এর কেন যেন ঠোটের কোনায় মৃদু হাসি ফুটে উঠল । ওই দিনই, রাতুল কোচিং শেষে যখন বাসার ছাদে গেল তখন আবারো মেয়েটিকে দেখতে পেলো, কেন যেন মেয়েটিকে যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ দেখতে ইচ্ছা করছিল তার, মেয়েতির হাসি, কোমলতা, ঘন কমল চুল এর অরাওরি সবই ভাল লাগছিল তার। সে মনে মনে বুঝতে পারল তার মনের ভিতরে কিছু একটা তৈরি হচ্ছিল ।

এভাবে কিছুদিন চলার পর রাতুল এর মনে হল, 'যাই না এক বার কথা বলে আসি মেয়েটার সাথে, কি করবে ? ভুত তো না যে ভয় দেখাবে !'।
তার পর দিন কোচিংএর ক্লাস এ হটাত করেই রাতুল দেখল তারাই দুইজন আজ সবার প্রথমে এসেছে । রাতুল এরও আজ মনে হল মেয়েটার সাথে কথা বলার আজই উত্তম দিন ।
'আপনি কি সেই মেয়েটি না যে ছাদে আসেন নিয়মিত ?', প্রশ্নটা করবার পর রাতুল এর মনে হল প্রশ্ন টা মান সম্পন্ন হয়নি
'হ্যাঁ, কেন বলুন তো ? আপনাকে তো আমি নিয়মিতই দেখি। আপনি কি আজ আমাকে ঠিক ভাবে লক্ষ্য করলেন ?'

রাতুল কি বলবে বুঝতে পারছিল না, এর আগে কখনও অপরিচত মেয়েদের সাথে এতটা চাহিদা নিয়ে কথা বলেনি । আমতা আমতা করে সে বলল,
'কেন দেখব না? আপনি তো প্রায়ই আমার বোনের সঙ্গে খেলা করেন'
'তাহলে, এত দিন কথা বলেননি কেন ?'
'এমনি......তা আপনি বলেননি কেন ?'
'আপনার বলার অপেক্ষায় ছিলাম্ন'
কথাটা কেমন যেন আপন আপন লাগল রাতুল এর কাছে, কিন্তু এর অর্থভেদ করতে পারল না সে
মেয়েটা এবার মাথা নিচু করে কিছু লিখতে লিখতে বলল, 'আমার নাম তুলি, আপনার নাম টা মনে হয় রাতুল......।কি ঠিক বললাম তো ?'
রাতুল এর কেমন যেন মনে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যেতে লাগল, কেন যেন মনে খুব প্রশান্তি বোধ করতে থাকল
'......আমার নামটা কিভাবে জানলেন ?'

'সেটা আপনার ছোট বোন ভাল বলতে পারবে....হি...হি...হি'
মৃদু হাসি টা রাতুল এর মন ছুয়ে গেল, মনে হল সে সাত রাজার ধনের সন্ধান পেয়েছে
আবারো মৃদু হেসে তুলি বলল 'আপনাকে তুমি করে বললে আপনি কি রাগ করবেন ? আসলে আমি আপনাকে আপনি করে বলতে পারছি না'
'হ্যাঁ, পারেন, অসুবিধা নাই।'

হ্যাঁ, বন্ধুত্তের সুরুটা এখান থেকেই । যতদিন গেল রাতুল আর তুলি আরও close বন্ধু হতে থাকল । না হয় নাই বললাম ঘটনাগুলো, Privacy বলেও তো একটা কথা আছে । যাই হোক, রাতুল এর সব বন্ধুরা তুলি আর ওকে 'Lover Couples' বলে ডাকত । রাতুল তুলি এর কথা বলতে পারবে না, কিন্তু ভালবাসা টা এখন বোধ হয় সে এখন বুঝে উঠতে পারেনি ।
সময় কেটে যায়, SSC পরীক্ষা শুরু হয়ে যায় । উচ্চতর গনিত পরীক্ষা এর আগে কম ছুটি থাকায় রাতুল তার সব বন্ধুদের কে বাসায় group study করার জন্য আমন্ত্রন দিল ।

সবাই এল ও বটে সময় মত, এলনা শুধু তুলি ।
পড়াশুনা শেষ এ সবাই যখন চলে যাচ্ছে, তখন তুলি কে দেখল সিঁড়ি বেয়ে ছাদে যেতে । বই গুছিয়ে যখন রাতুল ছাদে গেল তখন দেখল আজ তুলি কেমন একটা গুমত ভাবে ছাদের এক কোনায় আরালে বসে আছে । চুল গুল বাতাসে উড়ছে, ঠিক যেন মাদকাসক্ত রুগী এর মত । বিষয় টা আশ্চর্যজনক, কেননা তুলি এর মত উৎফুল্ল মেয়ে, যে কিনা বকা খাওয়ার পর ও তার উৎফুল্লতা সামান্যতম কমতে দেয় না, সেই তুলি আজ উদাস ।
কাছে যেয়ে রাতুল জিজ্ঞাস করল, 'কি বেপার বলতো ? আজ বাসায় এলে না কেন ? অনেক সমস্যা আজ বাসা থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল ।'
'আমার একটা কথার জবাব দেবে ?'
'বল, দেবো না কেন ?'
'আমার মধ্যে কি কোন খুত আছে ?'
'বুঝলাম না থিক...কি বলছ এসব ?'

হটাত করে রাতুল এর হাত টা জোর করে শক্ত করে চেপে ধরে তুলি বলল 'তুমি কি পারবে সারাটাজীবনের জন্য আমার সমস্যা সমাধান করতে ?'
'তুমি আজ কি বলছ আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না', অনেক টা অবাক হয়েই বলল রাতুল
'পারবে কিনা ? থাকতে কি পারবে সারাজিবন আমার পাশে ? শুধু হ্যাঁ নাহলে না বলবে'
'আশ্চর্য , এটা একটা কথা হল ? আমি তোমার পাশে আছিই, কোথায় যাব ?, তোমার আজকে হয়েছে টা কি বলতো?'
কোন উত্তর না দিয়ে, হটাতই উঠে চলে গেলো তুলি। রাতুল বুঝতে পারল কথাও একটা ভুল হয়েছে তার । সারাটা বিকাল ভাবল সে, কিন্তু এখন পেলো না ভুল টা ।

রাতে, এক গ্লাস দুধ খেয়ে যখন সে অংক করতে বসবে তখনই নিচের তলার তুলি দের
বাসা থেকে দরজা ভাঙ্গার আওয়াজ পাওয়া যেতে লাগল । শব্দটা কেমন কর্কশ হওাতে রাতুল মতেও পরতে পারছিল না, তাই সে তার মায়ের পিছনে পিছনে নিচে গেলো কি হয়েছে দেখতে
কিন্তু যেয়ে যা দেখল টা সে কখন আশা করেনি, হয়তবা কল্পনাতেও দেখেনি । দরজার কোনা থেকে যতইয়ুকু দেখা যাচ্ছে তাতে, তার বেস্ট বন্ধু তুলি এর নিথর দেহ তাদের খাওয়ার টেবিল এর উপর লাগানো সিলিং ফ্যান এর সাথে ঝুলছে !

রাতুল বুঝে উঠতে পারল না যে সে কি কোন ফিল্ম এর অংশ দেখছে নাকি কোন খুব খারাপ স্বপ্ন দেখছে । আসতে আসতে সব পরিশকার হতে থাকল, সে বুঝে উঠতে থাকল এটা কোন কাল্পনিক বা চোখের ভুল নয় এটা সত্যি । কখন যে তার চোখ বেয়ে অসস্রুধারা তার পা কে ভিজিয়ে ফেলেছে তা সে বুঝেই উঠতে পারল না । কি করবে ? কি বলবে ? কিছুই বুঝতে উঠতে পারছিল না । সব কিছু এ যেন খুব কুৎসিত আর অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হচ্ছিল । শুধু মনে হচ্ছিল তার সঙ্গে তুলি এর শেষ দেখাটা । আসতে আসতে বুকে সাহস জুগিয়ে তুলি এর নিথর দেহটার পাশে দারিয়ে যখন রাতুল তুলি এর নিথর হাতে হাত দিল, কেমন যেন তাঁর অপরাধি অপরাধি মনে হতে শুরু করল । এক ঝটকা তেই তাঁর হাত সরিয়ে নিয়ে, বুকে অসিম কষ্ট নিয়ে চলে গেলো......হ্যাঁ, চলে গেলো সে,সে শেষ বারের মত তুলি কে রেখে চলে গেলো ।

এই ঘটনা এর পর প্রায় ৭ বসর হয়ে গেলো। না এখন রাতুল ভোলেনি তাঁর কষ্ট । SSC আর HSC ফলাফল টা ভাল হয় নাই । অথচ তাঁর কাছ থেকে সবার আশা টা একটু বেশিই ছিল । এখন সে ভার্সিটি তে পড়ে , আসে পাশে অনেক মেয়ে বসে তাঁর সাথে। সে এখনও খুজে যায় তাঁর তুলিকে । সে এখনও জানতে পারেনি তুলির ওভাবে হটাত করে এমন আচরণের কারন । রাতুল এখন অপেক্ষায় আছে তুলির । সে এখন অপরাধী হয়েই আছে, প্র্যাসচিত্ত করা হয়নি তাঁর । বসে আছে তুলির মত তুলির জন্য । যে একে দেবে তাঁর জীবনের রং গুলো ।

না এটা কোন কাল্পনিক অথবা ছন্দের কাব্য নয়, এটা জীবনের এক অসুস্থ অংশ থেকে চুরি করা । উৎসর্গ থাকল তুলি নামক মেয়েটির জন্য । যেখানে থেকো সুখে থেকো ..............



                                              এই পোস্ট টি  ফেসবুক থেকে নেওযা হয়েছে এই টি লিখেছেন
                                                                    ♥ Jibon islam ♥


                                                 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন